বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:১৭ অপরাহ্ন
অনুসন্ধান ২৪ >> পুলিশ চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও থানা এলাকায় দিনদুপুরে মাইক্রোবাসে এসে গুলি করে যুবক আফতাব উদ্দিন তাহসীনকে হত্যার ঘটনায় হওয়া মামলায় মোহাম্মদ এমরান নামে আরো একজনকে গ্রেফতার করেছে। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত তিনজন গ্রেফতার হলেন। তবে এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা সন্ত্রাসী সাজ্জাদ ওরফে বুড়ির নাতি।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা চান্দগাঁও থানার এসআই মোমিনুল হাসান বলেন, ঘটনার দিন ঐ এলাকায় সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরি করছিলেন এমরান। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায় মাইক্রোবাসে ঘাতকরা ঘটনাস্থলে আসার পর তাদের সঙ্গে কথা বলেন এমরান। জিজ্ঞাসাবাদেও তিনি তাহসীনের অবস্থানের তথ্য দিয়ে খুনিদের সহযোগিতা করেন বলে স্বীকার করেন।
শনিবার (২৬ অক্টোবর) রাত ৩টার দিকে থানার অদূরপাড়া এলাকা থেকে এমরানকে গ্রেফতার করা হয়। এমরান চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার বৈলতলী এলাকার আবু তাহেরের ছেলে। তিনি অদূরপাড়া এলাকায় ফ্রিজ-এসি মেরামতের দোকানে কাজ করতেন।
এর আগে, শুক্রবার (২৫ অক্টোবর) নগরের পাঁচলাইশ থানা এলাকা এবং হাটহাজারী-রাউজান উপজেলায় অভিযান চালিয়ে ঘটনায় জড়িত মোহাম্মদ হেলাল ও ইলিয়াছ হোসেন অপুকে গ্রেফতার করা হয়। হেলাল এ হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।
তাহসীন চান্দগাঁও থানার চার নম্বর ওয়ার্ডের হাজীরপুল এলাকার দিলা মিস্ত্রি বাড়ির মোহাম্মদ মুছার ছেলে। এ ঘটনায় পরদিন মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) সাজ্জাদসহ পাঁচজনকে আসামি করে চান্দগাঁও থানায় হত্যা মামলা করেন মোহাম্মদ মুছা।
গত সোমবার (২১ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে চান্দগাঁও থানার অদূরপাড়া জাগরণী সংঘ ক্লাব সংলগ্ন একটি চায়ের দোকানে বসে ছিলেন তাহসীন। এ সময় কালো একটি মাইক্রোবাসে দলবল নিয়ে গিয়ে তার ওপর কয়েক রাউন্ড গুলি চালান শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ ওরফে বুড়ির নাতি। এতে ঘটনাস্থলেই তাহসীনের মৃত্যু হয়।
একটি সূত্রে জানা গেছে, এলাকায় ইট-বালুর ব্যবসা করতেন তাহসীন। গ্রেফতারকৃত হেলালও একই ব্যবসা করতেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে দ্বন্দ্ব ছিল। সরোয়ার হোসেন ওরফে বাবলার শেল্টারে ব্যবসা করতেন তাহসীন। তাই তাহসীনের সঙ্গে পাঙ্গা নিতে সাজ্জাদ ওরফে বুড়ির নাতির সহযোগিতা নেন হেলাল। আবার সাজ্জাদ ও সরোয়ারের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিনের।
সাজ্জাদ হাটহাজারী উপজেলার শিকারপুর এলাকার মোহাম্মদ জামালের ছেলে। তিনি বিদেশে পলাতক সাজ্জাদ আলী খানের সহযোগী। তার বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগে অন্তত ১০টি মামলা রয়েছে। গত ১৭ জুলাই অস্ত্রসহ সাজ্জাদকে গ্রেফতার করে চান্দগাঁও থানা পুলিশ। পরের মাসে তিনি জামিনে বেরিয়ে আসেন।